সমকাল ডেস্ক
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার বন্ধ করেনি দ্য ইকোনমিস্ট। যুক্তিগ্রাহ্য নয়, এমন আরও দুটি 'রচনা' ফেঁদেছে সাময়িকীটি। 'দ্য পয়জনাস পলিটিক্স অব বাংলাদেশ : রিভারসন টু টাইপ' শিরোনামে প্রথম নিবন্ধ পত্রিকাটির আজ শনিবারের সংখ্যায় ছাপা হওয়ার কথা। নিবন্ধটি বৃহস্পতিবার রাতেই পত্রিকাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। 'ইন দ্য নেম অব দ্য ফাদার' শিরোনামে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে আজ শনিবারের তারিখে আরেকটি 'মন্তব্য প্রতিবেদন' গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। উভয় নিবন্ধে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য রয়েছে যা সত্যের অপলাপ। অন্যদিকে ২৮ জুলাই 'ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ : অ্যামব্রেসেবল ইউ' শিরোনামে প্রকাশ করা নিবন্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতিবাদ এখনও পত্রিকাটির মুদ্রিত সংস্করণে ছাপা হয়নি। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের পাঠানো চার পৃষ্ঠার প্রতিবাদ গত ৫ আগস্ট পত্রিকার
অনলাইন সংস্করণে ছাপা হয়। এরপর ইকোনমিস্টের তরফে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে মূল পত্রিকায় ছাপানোর জন্য ৩০০ শব্দের মধ্যে প্রতিবাদ পাঠাতে বলা হয়। বাংলাদেশ এ সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদও পাঠিয়েছে। সেটি গতকাল অত্যন্ত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সঙ্গে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের চিঠিপত্র কলামে ছাপা হয়েছে। একটি সূত্র বলেছে, দ্বিতীয় দফায় পাঠানো প্রতিবাদ ইকোনমিস্টের আজকের মূল পত্রিকায় প্রকাশ হচ্ছে।
'দ্য পয়জনাস পলিটিক্স অব বাংলাদেশ : রিভারসন টু টাইপ' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট সবল হলেও রাজনীতি চলছে উল্টো পথে। নিবন্ধে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কিছু বিষোদ্গার করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গত আড়াই বছরে তার সরকার পরিচালনাসহ বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ৪০ বছরে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ঠিক ততটাই পিছিয়ে পড়ছে। গতকাল শুক্রবার সমকালের দ্বিতীয় সংস্করণে প্রতিবেদনটি হুবহু ছাপা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। ওই বিজয়ের পেছনে ছিল জাতির এক বুক আশা। আশঙ্কাও ছিল, ওই বিপুল ম্যান্ডেটকে দলীয় সুবিধার কাজে লাগাবে হাসিনা সরকার। নির্বাচনের আড়াই বছর শেষে আশাবাদ বেশিরভাগই চুরমার হলো। মোটামুটি প্রতিফলন ঘটল আশঙ্কার। বিষোদ্গারের এক পর্যায়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ যখন বিশাল প্রতিশ্রুতির সামনে দাঁড়িয়ে, তখন দেশটির রাজনীতি রয়ে গেছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং বিষাক্ত আকারে। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়েও আবার প্রশ্ন তুলেছে ইকোনমিস্ট। আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে বলে মনে করছে এই ব্রিটিশ পত্রিকা। যদিও এ বিষয়ে কোনো যুক্তি তুলে ধরা হয়নি। শুধু এক ব্রিটিশ আইনজীবীকে বাংলাদেশে ঢুকতে না দেওয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়েছে।
'ইন দ্য নেম অব ফাদার' শিরোনামে গতকাল পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতের প্রতি মোহাবিষ্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছেন। এতে বলা হয়, কোন দেশের সমকক্ষ হতে চান_ বাংলাদেশের বিজ্ঞজনদের এ প্রশ্ন করা হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ার দুই বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের নাম বলেন। এ দুটি হচ্ছে উদার, সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া এবং কর্মসংস্থান ও শহুরে অর্থনীতির শক্তি ভারত। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের নাম কেউ মুখে আনেন না। যাকে অনেক আগেই তারা ত্যাগ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের জীবনযাত্রা বেশ ভালো। দেশটি স্থিতিশীল এবং এর ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর অল্প কিছু মানুষ মুসলিম মৌলবাদী। দেশটির ১০ হাজার কোটি ডলারের উৎপাদনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ শতাংশ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানি এ অর্থনীতিকে সবল করছে। এ সবকিছু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (যাকে সিভিল সার্ভেন্টরা স্যার বলেন) বেশ আস্থাশীল করছে। মজার ব্যাপার ইকোনমিস্ট জানায় যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি কর্মকর্তারা 'স্যার' বলেন না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার দল নিরঙ্কুশ বিজয় পেলেও তারপর থেকে তার জনপ্রিয়তা নিম্নগামী। তবে তা এখনও বিপর্যয়কর নয়। গত জানুয়ারিতে এক জরিপে প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা বলেন, তার সরকার ভালো করছে। কিছু উত্তরদাতা প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে সমর্থন করেন। যারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদের শাসনামলে চরম দুর্নীতি করেছিল। কোনো তথ্য না দিয়েই সাময়িকীটিতে বলা হয়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে শেখ হাসিনা আশা করছেন গণতন্ত্রকে কুক্ষিগত করতে।
আরও একটি কষ্টকল্পিত মন্তব্য : তার সাম্প্রতিক আচরণে মনে হচ্ছে, তিনি বিরোধী দল দমন করে আগামী নির্বাচন বর্জনের দিকে তাদের ঠেলে দিতে চান।
আমাদের কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, গত ২৮ জুলাই ইকোনমিস্টে 'ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ : অ্যামব্রেসেবল ইউ' শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধের সমালোচনা করে ভারত এটাকে হতাশাজনক ও দুর্বল অনুসন্ধানের ফসল বলে মন্তব্য করেছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা মনে করেন, বাইরের পৃষ্ঠপোষকতা থেকেই এ ধরনের পক্ষপাতমূলক নিবন্ধন প্রকাশ করা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment