সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তাফা কামাল একজন নিভৃতচারী মানুষ। সাবেক প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে কেউ কেউ দেশ ও সমাজ নিয়ে নিজের চিন্তা-ভাবনা সরবে প্রকাশ করলেও বিচারপতি মোস্তাফা কামাল নীরব থাকাই পছন্দ করেন। সংবিধান সংশোধন কমিটির কাছে নিমন্ত্রিত হয়ে তিনি যখন তার বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন একজন সিনিয়র আইনজীবী তার বক্তব্যে বাদ সাধলে তিনি কোনোরূপ প্রতিবাদ না করে তার বক্তব্যের ইতি টানেন। বাদানুবাদে প্রবৃত্ত হওয়া তার কাছে রুচিসম্মত মনে হয়নি। এমন একজন মানুষ ‘সবাই সংযত হোন’ শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোতে খুব সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কলাম লিখেছেন। দেশের অবস্থা যে কত উদ্বেগজনক তা বিচারপতি মোস্তাফা কামালের কলামে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি লিখেছেন, ‘বিরাজমান পরিস্থিতি আমার কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে হয়। কী মূল্যস্ফীতি, কী আইনশৃঙ্খলা, কী প্রশাসন, কী অর্থনীতি, কী পররাষ্ট্রনীতি, কী দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের পরিস্থিতি—সর্বত্রই একটা ক্রমাবনতিশীল চেহারা প্রতিদিন অবনতির দিকেই ধাবিত হচ্ছে। দেশের এ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ-আশঙ্কা ব্যক্ত না করে আমি আর স্থির থাকতে পারছি না। দেশের এই অধোগতিতে এমন একটা লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে আমাকে আশ্বাসের সুরে বলতে পারবে যে আমি যা দেখেছি তা সব ভুল এবং আমার যে উদ্বেগ, এটার কোনো ভিত্তিই নেই। এমনকি যারা দেশ চালাচ্ছেন, তাদের মুখ থেকেও এই অবনতিশীল অবস্থা সম্পর্কে মাঝে-মধ্যে স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। আমি কারও ওপর দোষারোপ করার উদ্দেশ্যে একথা বলছি না।’
তিনি যে আদালতের প্রধান বিচারপতি ছিলেন সেখানে বিরাজমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, ‘সুপ্রিমকোর্ট একটি পরিশীলিত প্রতিষ্ঠান। বার এবং বেঞ্চ উভয়েরই উচিত এই স্থানকে রাজনীতির কলুষমুক্ত রাখা, সেখানে বার এবং বেঞ্চ কোনো পক্ষ থেকেই এমন প্রকাশ্য উচ্চারণ হওয়া উচিত নয় যে তারা বিশেষ একটা কিছু সহ্য করবেন না এবং এমন কথা বলবেন না যাতে আপনাদের অসহিষ্ণুতা বা বিচারকসুলভ সংযমের বিপরীতে ক্রুদ্ধতা বা আক্রোশের মনোভাব প্রকাশ পায়। ক্রমাগতভাবে এবং অতি দ্রুত সুপ্রিমকোর্টের এই অস্বাভাবিক অবস্থা আমার কাছে বড় বেদনাদায়ক। আমাদের চিত্তের উন্মত্ততা, আমাদের কর্মের নিষ্ঠুরতা ও আমাদের বিচারবুদ্ধির দেউলিয়াপনা আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এর আগে আমি আমার দেশে এই চরম মত্তাবস্থা কোনোদিন দেখিনি।’ দেশের বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘দেশের বহু সঙ্কটে আপনাদের বুদ্ধিদীপ্ত সতর্ক অবস্থান ও হস্তক্ষেপ অনেক সময় সরকার ও সরকারবিরোধীদের সংযত হতে সাহায্য করেছে। ভবিষ্যতেও আপনাদের কাছে সেই ভূমিকা প্রত্যাশিত। দেশের এই মহাসঙ্কটে আপনারা যেখানেই অরাজকতা দেখবেন সেখানেই গলা উঁচু করে তার প্রতিবাদ জানাবেন এবং অবনতিশীল বাংলাদেশকে চূড়ান্ত অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা করবেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে সবাইকে সংযত আচরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিচারপতি মোস্তাফা কামাল অবনতিশীল বাংলাদেশকে চূড়ান্ত অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়াসী হতে এবং গলা উঁচু করে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার উদ্বেগের কারণ হলো বাংলাদেশ চূড়ান্ত অধঃপতনের কিনারায় পৌঁছে গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে একটি রাাষ্ট্র ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ব্যর্থ রাষ্ট্রের প্রসঙ্গটি শীতলযুদ্ধের অবসানের পর থেকে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। ঐক্যবদ্ধ ফেডারেল রাষ্ট্র যুগোস্লাভিয়া ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। মার্শাল টিটোর নেতৃত্বে যুগোস্লাভিয়া বিশ্ব মানচিত্রে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিল।
তার ভারসাম্যমূলক এবং মোহিনী নেতৃত্ব বিচিত্র জাতিসত্তার দেশ যুগোস্লাভিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিল। কিন্তু তার মৃত্যুর পর বিভেদের বীজ থেকে বিষবৃক্ষের জন্ম হলো। ঘৃণা ও বিদ্বেষের আগুনে বহু মানুষকে জীবন দিতে হলো। জাতিগত ঘৃণা ও বিদ্বেষ শেষ পর্যন্ত যুগোস্লাভিয়াকে খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার পথে নিয়ে গেল। শুধু যুগোস্লাভিয়া নয়, পৃথিবীর আরও কয়েকটি দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে সোমালিয়া অন্যতম। রাষ্ট্রব্যবস্থা সেখানে এমনভাবে ভেঙে পড়েছে যে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানোও দুষ্কর। সোমালিয়ার পাশাপাশি আমরা আফগানিস্তান ও ইরাকের কথা বলতে পারি। পাকিস্তানের পরিস্থিতিও মোটেও সন্তোষজনক নয়। জঙ্গিগোষ্ঠীর বোমা হামলায় পাকিস্তানের শত শত লোক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে জঙ্গি দমনে মার্কিন ড্রোন বিমান হামলা ও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অভিযানের ফলে বহু মানুষ নিহত হয়েছে। এত রক্ত ও এত মৃত্যুর পাশাপাশি যোগ হয়েছে বন্দরনগরী করাচিতে জাতিগত সহিংসতা। সেখানে দুদিন আগের সত্ প্রতিবেশীকে এখন দেখা হচ্ছে চরম দুশমন হিসেবে। প্রতিবেশীর লাগোয়া ঘরে হামলা চালানোর জন্য বিরাটভাবে দেয়াল ফুটো করার ছবিও আমরা মিডিয়াতে দেখেছি। হিংসায় উন্মত্ত হলে মানুষ কত বদলে যেতে পারে এটি তারই দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও নানাবিধ কারণে সেই দিকেই এগুচ্ছে বলে আতঙ্কিতবোধ করার যথেষ্ট কারণ আছে। বিচারপতি মোস্তাফা কামাল সম্ভবত তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন। একসময় অর্থাত্ বর্তমান দশকের শুরুর দিকে জাতীয়তাবাদী ঘরানার লোকজন তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী করত। এখন জাতীয়তাবাদী ঘরানা এবং আওয়ামী ঘরানা উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে শামিল থাকার অভিযোগ উত্থাপন করছে। বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাটি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একার ব্যাপার নয়। তবে কী কারণে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে সে ব্যাপারে দুই পক্ষের ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ আলাদা। আওয়ামী ঘরানার লোকজন বলছে চারদলীয় জোটের লোকরা জঙ্গিবাদকে লালন করছে বলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে চারদলীয় জোট বিশেষ করে বিএনপির বক্তব্য হলো দেশের তাবত্ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে এবং বাংলাদেশকে করদরাজ্যে পরিণত করে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
একটি দেশ কখন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়? ব্যর্থ রাষ্ট্রের তত্ত্বটি এমন যে পৃথিবীর সব রাষ্ট্রই কমবেশি ব্যর্থতা বা ভঙ্গুরতায় ভুগছে। একটি রাষ্ট্র ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে দুটি কারণে। এর প্রথমটি হলো অভ্যন্তরীণ এবং দ্বিতীয়টি হলো বহির্দেশীয়। দুর্নীতি, অনাচার, অপশাসন ও বিশৃঙ্খলার ফলে একটি রাষ্ট্র ব্যর্থ রাষ্ট্রের পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এছাড়া জাতিগত সংঘাত ও তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলেও একটি রাষ্ট্র ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে বৈরী বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও কূটচক্রান্তও একটি রাষ্ট্রকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দুটি কারণই বেশ প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। সেটাই হলো চরম উদ্বেগের বিষয়। সেই উদ্বেগ থেকেই বিচারপতি মোস্তাফা কামাল তার মৌনতা ভেঙে সরব হওয়া সঙ্গত ভেবেছেন।
লন্ডন থেকে শুরু করে একের পর এক ব্রিটেনের বড় বড় শহরে সহিংস দাঙ্গা গত ক’দিনে প্রচণ্ডভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গণতন্ত্র ও সহনশীলতার সূতিকাগার বলে পরিচিত ব্রিটেনের এই সহিংস রূপ অনেককেই স্তম্ভিত করেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন ব্রিটেন কি ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে চলেছে। যারা এই প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তাদের খুব নির্বোধ মনে করা ঠিক হবে না। পশ্চিমা বিশ্বে ’৮০-র দশক থেকে নব্যউদারনীতিবাদী অর্থনৈতিক দর্শনের প্রভাবে যে নীতি চালু হয়েছে তার ফলে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হয়েছে। প্রকট হয়েছে দারিদ্র্য ও বিপন্নতা। এই অর্থনৈতিক দর্শনের মূল কথা হলো অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রের অবস্থান সঙ্কুচিত করে আনতে হবে, বাজেট ঘাটতি কমাতে হবে, কর ছাঁট করতে হবে ইত্যাদি। বাজেট ঘাটতি কমাতে গিয়ে জনকল্যাণ কর্মসূচিকে কাটছাঁট করতে হয়েছে এবং এর ফলে দরিদ্র ও বেকাররা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রাষ্ট্র যেসব খাতে ভর্তুকি বা সহায়তা দিত, যেমন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, সেখান থেকেও সহায়তার মাত্রা প্রচণ্ডভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। ফলে চিকিত্সা হয়ে গেছে ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দেখা পেতে হলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। এই অপেক্ষাটাও হয়ে ওঠে ব্যয়বহুল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ ছেঁটে ফেলায় ছাত্রদের টিউশন ফি বেড়ে গেছে বহুগুণ। ক’মাস আগে লন্ডনে ছাত্রদের এর প্রতিবাদ করতে দেখেছি। এছাড়া ২০০৮ থেকে যে মন্দা পরিস্থিতির সূচনা তার জের এখনও কাটেনি। বেকারত্বের হার অস্বাভাবিক। আরেকটি নতুন ও ভয়াবহ রকমের তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা ইউরোপের দরজায় করাঘাত করছে। এর ঝাপটা থেকে ব্রিটেনও নিষ্কৃতি পাবে না। সঙ্কট সামাল দেয়ার জন্য অধিপতি শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী সব দল মিলে একটি জাতীয় সরকারও গঠিত হতে পারে। এই অধিপতি শ্রেণীর সরকারগুলো ধনীদের বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক ও গ্রন্থ প্রণেতা তারিক আলী এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘তারা ঘোষণা দিয়েছে, বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের উচিত গুলালসহ ধরাপড়া যে কোনো বিক্ষোভকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া। কখনোই তারা সত্যিকারভাবে প্রশ্ন তোলেনি, ১৯৯০ সালের পর পুলিশ হেফাজতে শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার জন্য কখনোই কোনো পুলিশকে শাস্তি পেতে হয়নি। যে দলই হোক, সংসদ সদস্যরা কালো কি সাদা যা-ই হোন, সবাই একই ভণ্ডামি করে যাবে। হ্যাঁ, আমরা জানি যে লন্ডনের রাস্তায় সহিংসতা ভালো নয়। আমরা জানি, দোকানপাটে লুটপাট করা ঠিক না। কিন্তু একবারও প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন এই মুহূর্তেই এসব ঘটছে?
কেন গত বছর এই বিক্ষোভ ঘটেনি? কারণ, বঞ্চনার অনুভূতি দানা বাঁধতে সময় নেয়। কারণ, ব্যবস্থা যখন বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর এক কালো যুবকের মৃত্যু চায়, তখন তাদের এই চাওয়া প্রতিবাদও ডেকে আনে। অচেতনভাবে হলেও প্রতিবাদ তারাই সৃষ্টি করেছে।’ সুতরাং যে ব্যবস্থা বঞ্চনার সৃষ্টি করে এবং কালের প্রবাহে বঞ্চনাবোধকে জমাট বাঁধায়, সেই ব্যবস্থাই এই ধরনের বিক্ষোভ প্রতিবাদেরও বিশৃঙ্খলার কারণ। আমার মনে হয় না ব্রিটেনে সংঘটিত ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ক্ষুব্ধ প্রতিবাদের কোনো সাংগঠনিক নেতৃত্ব আছে। নেতৃত্ব ছাড়াই সহিংস তত্পরতা একের পর এক নগর-নগরিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ঘটনাগুলোকে ঈত্রসরহধষরঃু বলে আখ্যায়িত করেছেন। ঈত্রসব কিংবা ঈত্রসরহধষরঃু গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে ক্রাইম সমাজেই ঘটে। অসম ও বৈষম্যমূলক সামাজিক সম্পর্ক থেকেই ক্রাইমের উত্পত্তি। মার্কস বলেছিলেন, Crime is an unorganised social protest against exploitation. গত ক’দিন ব্রিটেনে তাই ঘটেছে। তারিক আলী আরও লিখেছেন, ‘টটেনহাম, হকনি, এনফিল্ড ও ব্রিক্সটনের বেকার তরুণ বা অর্ধবেকার কালো তরুণরা বুঝে গেছে, ব্যবস্থা তাদের বিরুদ্ধে। রাজনীতিবিদদের বিকট চিত্কার যেখানে বেশিরভাগ মানুষের মনে কোনো দাগই কাটে না, সেখানে যারা আজ রাস্তায় আগুন জ্বালাচ্ছে, তারা তা শুনবে কেন? আগুন নিভে যাবে। কেন মার্ক ডুগ্যান নামের কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছিল, তা নিয়েও হয়তো গোপনীয় কোনো তদন্ত হবে। সরকার হয়তো অনুতাপও প্রকাশ করবে, ডুগ্যানের শেষকৃত্যে হয়তো ফুলও ছিটাবে পুলিশ। কিন্তু গ্রেফতার হওয়া প্রতিবাদীদের ঠিকই শাস্তি দেয়া হবে। তারপর সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। জীবন বয়ে চলবে আবার এরকম কোনো বিদ্রোহ ঘটার আগ পর্যন্ত।’
বাংলাদেশেও আমরা বিদ্রোহের পর বিদ্রোহ ঘটতে দেখেছি। তারপরও সমাজ ফিরে গেছে স্থিতাবস্থার নিস্তরঙ্গতায়। তাই বোধকরি সাম্প্রতিকতম সময়ে ঘটে যাওয়া এবং ঘটতে থাকা দুরাচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহাত্মক প্রতিবাদ মুখর হতে সময় লাগছে। এরকম বিদ্রোহও হয়তো শেষ পর্যন্ত সমাজে কোনো ফলপ্রসূ পরিবর্তন আনে না। কিন্তু তারপরও বিদ্রোহের টালমাটাল মুহূর্তগুলোতে বুকের ওপর চেপে থাকা পাষাণভার ক্ষণিকের জন্য হলেও সরে গেছে মনে হয়।
E-mail : mahbub.ullah@yahoo.com
[সূত্রঃ আমার দেশ, ১৩/০৮/১১]
No comments:
Post a Comment