গত ২২ জুলাই নরওয়ের রাজধানী অসলো প্রচণ্ড শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। এতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরসহ আশপাশের কয়েকটি ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ কোনরূপ আঘাত পাননি। প্রায় একই সময়ে রাজধানী থেকে দূরে একটি দ্বীপে ক্ষমতাসীন দলের একটি সম্মেলনে নিহত হয়েছেন ৯২ জন। নরওয়ের এই ট্রাজিক ঘটনা বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে। নরওয়ের মতো দেশে এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারে তা আমাদের অনেকেরই কল্পনা ও চিন্তারও বাইরে। কারণ নরওয়ে নীতিগতভাবে বিশ্ব সংঘাতে পারতপক্ষে জড়ায় না। নির্বিবাদী দেশ হিসেবে নরওয়ের একটি ভাবমূর্তি আছে। তাই প্রশ্ন জাগে, নরওয়ের মতো দেশে এমন ঘটনা ঘটল কেন? ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে এরকমই ঘটনা প্রায় নিত্যদিনই ঘটে থাকে। এমনকি ক’দিন আগে ভারতের মুম্বাইতেও সিরিজ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে এবং হতাহত হয়েছে বেশ ক’জন। কিন্তু ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের ঘটনাগুলো পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে। সারাবিশ্বের মিডিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে ইসলামী জঙ্গিবাদের আতংক ও ভয়াবহতা প্রচার করে আসছিল। ইসলামী জঙ্গিবাদ থেকে আত্মরক্ষার জন্য বিশ্বের অনেক দেশকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লক্ষ্য কোটি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এখন নরওয়ের ঘটনা আমাদের জন্য ভিন্ন এক ধরনের সন্ত্রাসবাদের সাবধানী ঘণ্টা হিসেবে কাজ করছে।
অসলোর বোমা হামলা এবং উটোয়া দ্বীপে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১০০ মানুষকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন অ্যান্ডার্স বেহরিং ব্রেইভিক। তিনি বলেছেন, ‘নির্মম হলেও এটার প্রয়োজন ছিল।’ গত ২৪ জুলাই দেশের পুলিশ প্রধান সেভিনাং সোনহেইম জানান, বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ উভয় ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন ব্রেইভিক। তবে এর মাধ্যমে কোন অপরাধ করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন না। ব্রেইভিকের আইনজীবী গিয়ের লিপস্টেডের বক্তব্য থেকে জানা যায়, যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা বর্বোরোচিত বলেই মনে করেন ব্রেইভিক। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এটা প্রয়োজন ছিল। তিনি চান সমাজে একটি পরিবর্তন আনতে। আর এজন্য একটি বিপ্লব প্রয়োজন। তিনি সমাজ ও সমাজ কাঠামোয় আঘাত হানতে চেয়েছিলেন। এজন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা করেন তিনি। আইনজীবী লিপস্টেডের বক্তব্য থেকে আরও জানা যায়, তার মক্কেল ব্রেইভিক উটোয়া গিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে এ সতর্কবার্তা দিতে যে, দলটি যদি তাদের নীতি পরিবর্তন না করে, তাহলে অচিরেই ভয়ংকর দিন আসবে। ফেইসবুক, টুইটার ও ইউটিউব অ্যাকাউন্টে ব্রেইভিক নিজেকে একজন রক্ষণশীল খ্রিস্টান হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন। এসব অ্যাকাউন্ট ও ব্লগে ব্রেইভিকের ওয়েব পোস্টিং ও লেখালেখি বিশ্লেষণ করে পুলিশ মনে করছে, ব্রেইভিক একজন ডানপন্থী ধর্মীয় উগ্রবাদী ও সাংস্কৃতিক মার্কসবাদীদের ঘৃণা করেন। ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে ব্রেইভিক বলেছেন, তিনি ভিয়েনা স্কুল অব থটের অনুসারী এবং নেদারল্যান্ডসের রাজনীতিবিদ গ্রিট হিল্ডার্সের ভক্ত। ভিয়েনা স্কুল অব থট বহু-সংস্কৃতিবাদ (মাল্টি-কালচারালিজম) ও ইসলাম সম্প্রসারণের বিরোধী ও হিল্ডার্সও ইসলামবিদ্বেষী।
ইউরোপীয় ভাষ্যকাররা মনে করেন, নরওয়ের রক্তাক্ত ঘটনার সঙ্গে ইউরোপে চরম ডানপন্থীদের জাগরণের যোগসূত্র রয়েছে। তারা বলেছেন, ইউরোপে মুসলিম অভিবাসী ও ইসলামের বিরুদ্ধে কী পরিমাণ বিদ্বেষ দানা বাঁধছে তা এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সহজে অনুমান করা যায়। ব্রেইভিক নিজে নরওয়ের ডানপন্থী দল প্রগ্রেস পার্টির সঙ্গে এক সময় সক্রিয় ছিলেন। এ দলটি চরম মুসলিমবিদ্বেষী। ব্রেইভিক এমন সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটালেন, যখন ইউরোপের দেশগুলোতে চরম দক্ষিণপন্থীরা মুসলিমবিরোধী বক্তব্যকে পুঁজি করে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করে চলেছে। প্যারিসে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস কোহেন বলেন, এ ঘটনা ইউরোপের ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষী আবহের অংশ। এটি এমন এক দর্শন জগতের অংশ যেখান থেকে ব্রেইভিকের মতো লোক প্রেরণা পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইতালি থেকে ফ্রান্স, ফ্রান্স থেকে ফিনল্যান্ড তথা ইউরোপজুড়েই ডানপন্থী দলগুলো রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলছে। ডানপন্থীরা ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম বংশোদ্ভূত লোকদের ইউরোপে অভিবাসন পাওয়ার বিষয়ে তারা ঘোর বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এ জাতীয়তাবাদী নীতিকে পুঁজি করে তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের সমর্থন পেতে সক্ষম হয়েছে।
আশংকা ও আতংকের বিষয় হল, ব্রেইভিকরা বিচ্ছিন্ন কোন ব্যক্তি নয়। চরম দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা ও ভাবাদর্শের বাতাবরণে এরা এখন বিপুলভাবে সংগঠিত হচ্ছে। প্রচার করছে জাতিগত, বর্ণগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ। এদের প্রভাব এতটাই বর্ধনশীল যে, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ভাবাদর্শের ভিত্তিতে গঠিত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভোটের ঝুলি বৃদ্ধি করতে গিয়ে প্রগতিশীল মতাদর্শ ত্যাগ করে আপসের পথে পা বাড়াচ্ছে। রেনেসাঁ এবং এনলাইটেনমেন্টের আলোকে আলোকিত ইউরোপ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে চলেছে। এখন আর কেউ বলতে পারবে না কূপমণ্ডূকতা, তমসাবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা শুধু ইসলামী দেশগুলোর বৈশিষ্ট্য। ইতিহাস পশ্চাৎপসারণ করে না বলে একটি জোরালো আশাবাদ প্রচলিত ছিল। এখন সেই আশাবাদ নৈরাশ্যের অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে চলেছে। গোয়ার্তুমি ও উগ্র ধ্যান-ধারণা যুক্তিবাদের সীমান্তে আঘাত হেনেছে। পৃথিবী হয়ে উঠেছে তটস্থ, ভীত-সন্ত্রস্ত। আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ৯/১১’র ঘটনার পর মোহাম্মদ বা ইসলাম সংশ্লিষ্ট নামগুলো নিয়ে আচ্ছন্নতাক্লিষ্ট ছিল। এখন তারা বেহরিং বা বেইলি যাদের নামের সঙ্গে যুক্ত আছে তাদের নিয়ে কী করবে?
২০০৫ সালে ডেনমার্কের এক কার্টুনিস্ট মহানবী (সা.)-এর একটি ব্যঙ্গচিত্র আঁকায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তবে ওই কার্টুনিস্টের পক্ষ নেয়ায় ডেনমার্কের ডানপন্থী দল ডেনিশ পিপলস পার্টির জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। গত মে মাসে ডেনমার্কের সরকার সীমান্ত পুনঃনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কার্যকর করে। ডেনিশ পিপলস পার্টির দাবি, তাদের আন্দোলনের কারণেই সরকার অবাধ সীমান্তনীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। তবে যেসব নেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৫টি দেশের মধ্যে অবাধ যাতায়াত অব্যাহত রাখার পক্ষে, তারা ডেনমার্কের ওই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নেদারল্যান্ডসে গত বছরের নির্বাচনে সেখানকার ফ্রিডম পার্টি ‘ইসলাম হটাও’ স্লোগান দিয়ে ১৫.৫ শতাংশ ভোট পেতে সক্ষম হয়।
সুইজারল্যান্ডে বর্তমানে মাত্র ৪টি মসজিদ রয়েছে। সেখানে আবার মসজিদ মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ হয়েছে। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও খ্রিস্টীয় মৌলবাদের উত্থানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে। বেনজামিন আর বারবার তার ‘JIHAD VS. McWorld’ গ্রন্থে লিখেছেন : Modernity has enemies other than Islamic Holy War, then, some of them on McWorld's own American home turf. At least since the 1730s, when America experienced its first 'Great Awakening' in Protestant fundamentalism, this country has periodically felt the zeal of reactive religion. Mainstream Christian Coalition leaders today offer what is relatively speaking a moderate version of Jihad. Jerry Falwell, the president of Moral Majority, thus sermonizes against a Supreme Court that has 'raped the Constitution and raped the Christian faith and raped the Churches' and implores followers to 'fight against those radical minorities who are trying to remove God from our textbooks, Christ from our nation. We must never allow our children to forget that this is a Christian nation. We must take back what is rightfully ours'. Pat Buchanan tells the Republican National Convention in 1992 that the country faces a cultural war for its very survival and victorious Republicans following the 1994 elections accuse President Clinton of counter cultural and un-American attitudes. Less conventional warriors such as Randall Terry, the antiabortion crusader, are far more blunt : I want you to just let a wave of intolerance wash over you. I want you to let a wave of hatred wash over you. Yes, hate is goodt Our goal is a Christian nation. We have a biblical duty, we are called by the God, to conquer this country.
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্রোতধারার রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টিও চরম মৌলবাদী প্রচার প্রচারণার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারছে না। বুশ ও কেরির নির্বাচনী যুদ্ধে ‘গর্ভপাত’ একটি প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বুশ ছিলেন গর্ভপাতের বিরুদ্ধে এবং কেরি ছিলেন গর্ভপাতের পক্ষে। এ কারণে বুশ চিহ্নিত হলেন pro-life ও কেরি চিহ্নিত হলেন anti-life হিসেবে। আজকের এ একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চোখ ধাঁধানো অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষ কেন আদিম ও প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণায় প্রত্যাবর্তন করছে এটাই হল মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের প্রশ্ন। বিজ্ঞান প্রকৃতির রহস্য উন্মোচন করে মানুষকে আত্মপ্রতয়ী করে তোলার কথা। কিন্তু যখন আমরা দেখি আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার পরিবর্তে মানুষ পশ্চাৎমুখী হয়ে উঠছে তখন মনে হয় না বিজ্ঞান মানুষকে আলোকিত করতে পারছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশাল অগ্রগতি সত্ত্বেও আজও মানুষ জানে না সে কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে। এই অসহায়ত্ববোধ মানুষকে প্রতিনিয়ত ধর্মের কাছে আশ্রয় নিতে প্রণোদিত করছে। এ প্রণোদনার সঙ্গে যখন সংকীর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থবোধ যুক্ত হয় তখন এর পরিণতি হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ। ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত ধনবাদী দেশগুলোতে এমনকি প্রাচ্যের জাপানে জনমিতিক (Demographic) বিন্যাসে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এসব দেশে বয়োবৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বিশাল; কিন্তু কর্মঠ তরুণ লোকের সংখ্যা খুবই কম। জন্মহার মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ার ফলে, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে ঋণাত্মক (Negative) হওয়ার ফলে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে পারে এমন সংখ্যক প্রয়োজনীয় জনবলের প্রচণ্ড ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এসব দেশের সন্তান উৎপাদনের আচরণে পরিবর্তন না এলে শুধু নিজস্ব শ্রমশক্তি দিয়ে কোনক্রমেই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না বরং দেখা দেবে মাথাপিছু আয়ে নিম্নমুখিতা। এর আশু সমাধান হল জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ অনুন্নত বিশ্ব থেকে উন্নত বিশ্বে শ্রমশক্তির অভিবাসন। কিন্তু এ অভিবাসনকে ওইসব দেশের কতিপয় গোষ্ঠী তাদের চাকরি-বাকরি হারানোর আশংকা হিসেবে দেখছে। ফলে তারা অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণায় লিপ্ত হচ্ছে। তাদের বর্শা ফলক নিক্ষিপ্ত হচ্ছে মূলত মুসলিম অভিবাসনকারীদের বিরুদ্ধে। এ থেকে ধারণা করা যায়, এটি খ্রিস্টীয় মৌলবাদের সমকালীন উত্থানের একটি বড় কারণ।
বেনজামিন আর বারবার, যিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, তিনি তার বইটির নামকরণ করেছেন ‘JIHAD VS. McWORLD’। জিহাদ ইসলামী মৌল পন্থার প্রতীক। ম্যাকওয়ার্ল্ড হচ্ছে ম্যাকডোনাল্ডস ওয়ার্ল্ডের সংক্ষিপ্ত রূপ। ম্যাকডোনাল্ডের চেইন ফুডশপগুলো এখন বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। সুতরাং প্রতীকী অর্থে বিশ্বায়ন মানে ম্যাকওয়ার্ল্ড। বিশ্বায়ন বিশ্ব অর্থনীতিকে উত্তরোত্তর রাষ্ট্রীয় সীমানার গণ্ডিকে অতিক্রম করে সংহত রূপ দিচ্ছে। অর্থাৎ এখন Economics is international. কিন্তু রাজনীতি হয়ে উঠছে ক্রমান্বয়ে আরও ন্যাশনাল। বিশ্বের দেশে দেশে উগ্র সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ যেন বিশ্বায়িত অর্থনীতির আগ্রাসনের মুখে বর্ম ধারণ করে আত্মরক্ষার এক বেপরোয়া প্রয়াস। এ দুই বিপরীতমুখী প্রবণতার যে দ্বন্দ্ব, তা নিরসনের কোন জুতসই কৌশল সমাজবিজ্ঞানীদের আদৌ জানা আছে কিনা সন্দেহ। বেনজামিন আর বারবার তার গ্রন্থের এক জায়গায় Soleless McWorld’র কথা বলেছেন। তার কথিত জেহাদ পরিচালিত হচ্ছে Soleless McWorld’র বিরুদ্ধে। বিশ্ব বস্তুতগত অগ্রগতির দিক থেকে অনেকদূর অগ্রসর হলেও আত্মার শক্তিকে হারাতে বসেছে। এ জন্য কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। বারবার শুধু ইসলামী মৌলবাদের কথাই বলেননি। তিনি Martin E. Marty I R. Scot Appliby’র একটি ক্লাসিক্স স্টাডির সূত্রে শুধু ইসলাম নয়, যুগপৎ খ্রিস্টীয়, বৌদ্ধীয় ও হিন্দুত্ববাদী মৌলবাদের কথাও বলেছেন। এর সবই বিপদের উৎস হতে পারে। আমাদের দেশে একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবীর আক্রমণের তীর কেবলমাত্র ইসলামের বিরুদ্ধেই নিক্ষিপ্ত হতে দেখি। অন্যগুলোর বিরুদ্ধে নয়। অথচ নরওয়ের ঘটনা দিব্যি দেখিয়ে দিল খ্রিস্টীয় মৌলবাদ কত ভয়াবহ হতে পারে। শুধু নিরাপত্তা বা সুরক্ষাব্যবস্থা কঠোর থেকে কঠোরত করে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আমার মনে হয় না। চলমান বিশ্বায়নকে কী করে আত্মিক ঐশ্বর্যে সুষমামণ্ডিত করে তোলা যায় সে সম্পর্কেও দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও রাষ্ট্রনায়কদেরও গভীরভাবে ভাবতে হবে।
ড. মাহবুব উল্লাহ্ : প্রফেসর, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
mahbub.ullah@yahoo.com
[সূত্রঃ যুগান্তর, ৩০/০৭/১১]
No comments:
Post a Comment