প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের মনের মধ্যে কী ছিল জানি না। কিন্তু তাদের আয়োজিত ‘পঞ্চদশ সংশোধনী ও বর্তমান রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, এই পঞ্চদশ সংশোধনী বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ‘মুদ্রিত মূর্খতা’। বলেছেন, ‘এটি শাসক শ্রেণীর বিবেক প্রতিবন্ধিতা, আপসকামিতা ও মোনাফেকির দলিল।’ এ জন্যই বোধকরি তারা বলেছেন, ‘এটিকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যাবে না। বরং ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে অতীতের শাসক শ্রেণীর নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ দেখাতেই এটিকে তুলে রাখতে হবে। দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে, গায়ের জোরে পঞ্চদশ সংশোধনী করা হয়েছে।’
এই সংগঠন ও বক্তারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কিংবা মুফতি ফজলুল হক আমিনীর মতো ভয়ানক বিষাক্ত বাক্যবাণ বা মামলা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন কি না জানি না। হলেও অবাক হতাম না। কারণ পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের পর একদিকে বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার দরোজা রুদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে শাসক দল, বিশেষ করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হয়ে পড়েছেন ভয়াবহ রকম মারমুখী। অস্থির, অসহিষ্ণু এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ।
চোখের সামনের ভদ্রতার পর্দা বলে এখন আর কিছু নেই। লাগামমুক্ত কণ্ঠস্বর সপ্তমে চড়িয়ে, যার যা খুশি তারা বলে যাচ্ছেন। যে যেভাবে পারেন মুখ ও জিহ্বার ঝাল মেটাচ্ছেন; ধার পরীক্ষা করছেন। এত যে বৃষ্টি হচ্ছে তবুও বর্তমান সরকার ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মাথা কিছুতেই ঠাণ্ডা হচ্ছে না। থামছে না অতিকথন। যেন চলছে গালাগাল আর মূর্খতার প্রদর্শনী। দেশে যেন হচ্ছে মচ্ছব। মূর্খতার মচ্ছব।
সে জন্যই যে যাই বলুক, কুচ পরোয়া নেই। চোয়ালবাজি বিরতিহীনভাবেই চলছে। এক মন্ত্রী বলছেন, একদিন বাজারে যাবেন না। সঙ্গে সঙ্গে বাঁচাল বাণিজ্যমন্ত্রী আবিষ্কার করলেন ‘কম খান’ তত্ত্ব। ব্যর্থ, অথর্ব অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজারের নিঃস্ব-রিক্ত ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে ফট করে বলে বসলেন ফটকাবাজ।
আমার খুব ইচ্ছে করছিল আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী যে দারুণ একটা তত্ত্ব জাতিকে উপহার দিয়েছেন সে জন্য তাকে পিঠে চাপড়ে দেব। কিন্তু বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং ওবায়দুল কাদের সাহেবের ‘কথা কম কাজ বেশি’ কিংবা ‘জাতির সঙ্গে তামাশা বন্ধ করুন’ শুনে মন খারাপ করে ফেলেছি।
প্রাচীন পণ্ডিতরা বলতেন, আমরা সত্যি হতভাগা। আমরা গুণের কদর করতে জানি না। গুণীজনকে সম্মান দিতে পারি না। সেই কথাই আবার সত্য হলো। নইলে ফারুক খানের এই আবিষ্কারের জন্য তার মতবাদ মার্কসবাদ, লেলিনবাদ, কিংবা মাও সে তুংয়ের চিন্তাধারার মতো সাদরে গৃহীত হতো।
কত কষ্ট করে দেশ ও জাতির জন্য দিন-রাত খেটেখুটে, আহার নিদ্রা হারাম করে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী আর্কিমেডিসের মতো ইউরেকা ইউরেকা বলে আবিষ্কার করলেন এই ‘কম খান তত্ত্ব’। বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতো, টমাস আলভা এডিসনের মতো, রাইট ব্রাদার্সের মতো ফারুখ খানের এই আবিষ্কার পুষ্পচন্দন ধূপ ধুনা দিয়ে বরণ করার বদলে তার একটা স্টাচু রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে স্থাপনের বদলে আমরা সবাই মিলে তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এত বড় একটা আবিষ্কারের মহিমাকে ধুলায় মিলিয়ে দিচ্ছি।
বলা হচ্ছে এরপর তিনি হয়তো বলবেন, কম কাপড় পড়ুন, উলঙ্গ থাকুন। কত বড় অন্যায়!
দুই.
ফারুক খানকে একটা গণসংবর্ধনা দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও এখন আরেক আবিষ্কারের সামনে জাতি বিস্মিত, বাকরুদ্ধ। এত আনন্দ সহ্য করা যায় না। আসলে আমাদের বর্তমান সরকারের মধ্যে প্রতিভার ছড়াছড়ি। আর আমরা হলাম ভৌগোলিকভাবে ভাঙনপ্রবণ মৃত্তিকার মানুষ। বন্যার পর আসে ঝড়। ঝড়ের পরে আসে গোর্কি। একটা নিয়ে হৈচৈ শুরু করার আগেই শুরু হয়ে যায় আরেকটি। ফলে আবিষ্কারের পর আবিষ্কারের ধাক্কায় আমাদের জীবন হয়ে পড়েছে টলমল। কোনটা রেখে কোনটা নিয়ে কথা বলি!
ফারুক খান, আবুল মাল আবদুল মুহিত ও কামরুল ইসলামকে টেক্কা দিয়ে আবার আবিষ্কারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। মতিয়া আপার দ্বিতীয় মহা মহা আবিষ্কার প্রথমবারের মতো অবমুক্ত হয়েছে গত ১০ আগস্ট, স্বাধীনতা চিকিত্সা পরিষদের এক সমাবেশে। তিনি তার আবিষ্কার উপস্থাপন করে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ২২ হাজার রাজাকারকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তারপর রাজাকারদের পুনর্বাসনের জন্য সব ব্যবস্থা করেন।’
তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে তার আবিষ্কারের পক্ষে যুক্তি উত্থাপন করে বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের কখনোই ক্ষমা করেননি। তাদের ক্ষমা করেছেন জিয়াউর রহমান।
মতিয়া আপার এই আবিষ্কারে নিশ্চয়ই সরকারি মহলে ধন্য ধন্য পড়ে গেছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ‘জিয়া উচ্ছেদ প্রকল্পে’ এই আবিষ্কার নতুন প্রাণশক্তি জোগান দেবে সন্দেহ নেই।
এর আগেও মতিয়া আপা আবিষ্কার করেছিলেন, জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করলেও মন থেকে মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তার বক্তব্য পড়ে চারদিকে সাড়া পড়ে গিয়েছিল। আমরাও তখন বলেছি, সত্যি এটা একটা দারুণ আবিষ্কার। এই আবিষ্কারের ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হলো, মতিয়া আপার ‘রুহানি ফয়েজ’ হাসিল হয়েছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার দেখাই হয়নি। জিয়া যখন রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছেন, তখন মতিয়া আপা কোথায় ছিলেন আল্লাহ পাক জানেন, আমরা জানি না। জিয়ার নেতৃত্বে কোদাল হাতে সিপিবি ও ন্যাপসহ সবাই যখন দেশ গঠনে খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল, তখন মতিয়া আপা কোদাল ধরেছিলেন কি না আমরা জানি না, আল্লাহ জানেন। তারপর জিয়ার শাহাদাত প্রাপ্তির ৩০ বছর পর অনুকূল বাতাসে মোড়ক খুলে গেল তার আবিষ্কারের।
রুহানি ফয়েজ হাসিল ছাড়া দূরের একজন মানুষের মনের খবর জানার আর কোনো পথ নেই। তেমন যন্ত্র আজও কোথাও পাওয়া যায়নি। ফলে সঙ্গত কারণেই আমার মতো অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হজরত রাবেয়া বসরির পর আর একজন মহিলা আউলিয়া পাওয়া গেল। যিনি যে কারও মনের কথা বলে দিতে পারেন। এমনকি মৃত মানুষের মনের খবরও তার অজানা নয়। কী হতে পারে তার সম্ভাব্য নাম, ‘মতিয়া বসরী’ নাকি ‘মতিয়া শেরপুরী’?
বিষয়টিকে হাল্কা করে দেখার উপায় নেই। রীতিমত ভারী। তখনই আমাদের মনে হয়েছিল এই যে রুহানি শক্তি, তা পারমাণবিক শক্তির মতোই জাতির বৃহত্তর কল্যাণে লাগানো যেতে পারে। তাকে উত্সাহ দিলে তিনি আরও অনেক নতুন নতুন বাণী জাতিকে শোনাতে পারবেন। প্রথম আবিস্কারে হয়তো বিপুল উত্সাহ ও অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন। সেই উত্সাহ ও অনুপ্রেরণার ফসলই হলো তার দ্বিতীয় আবিষ্কার। জিয়া ২২ হাজার রাজাকারকে ক্ষমা করেছিলেন। কারণ জিয়ার পিতা-মাতার কবর পাকিস্তানে। পাকিস্তানের কাছে তার ঋণ আছে।
এরপর হয়তো মতিয়া আপা বলবেন, পাকিস্তান যেহেতু পশ্চিম দিকে, অতএব পশ্চিম দিকে মুখ করে নামাজ পড়া যাবে না। কারণ তার মধ্যে পাকিস্তান প্রীতি প্রকাশ পেতে পারে।
তিন.
যার পিতা-মাতার কবর পাকিস্তানে নয়, গোপালগঞ্জের টুঙ্গী পাড়ায়, সেই মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা প্রসঙ্গে ‘ইতিহাসের রক্ত পলাশ; পনেরই আগস্ট পঁচাত্তর’ গ্রন্থে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীকুল শিরোমণি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘১৯৭৩ সালে ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবসের আগে বঙ্গবন্ধু আমাকে কলকাতা থেকে ডেকে পাঠান।... তিনি আমাকে একান্তে ডেকে নিলেন। বললেন, এখনই একটি সরকারি ঘোষণার খসড়া তোমাকে লিখতে হবে। পাকিস্তানিদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যারা দণ্ডিত ও অভিযুক্ত হয়েছেন, সবার জন্য ঢালাও ক্ষমা (জেনারেল অ্যামনেস্টি) ঘোষণা করতে যাচ্ছি। বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলাম, পালের গোদাদের ছেড়ে দেবেন।... মুজিব হেসে বললেন, না, তা হয় না। সবাইকেই ছেড়ে দিতে হবে। আমার এ আসনে বসলে তোমাকেও তাই করতে হতো।’ যথারীতি এ লেখার মধ্যেও সাল-তারিখ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
শেখ মুজিব ‘১৯৭২ সালের বাংলাদেশ দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনালস) আদেশ (পিও নং ৮, ১৯৭২ সালে) বলে আটক ও সাজা ভোগ করছিলেন যারা তাদের সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন ১৯৭২ সালের ৩০ নভেম্বর। অর্থাত্ সব রাজাকারকে ক্ষমা করে দেন মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান। আর যুদ্ধাপরাধীদের তিনি ক্ষমা করেন ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল।
দালাল আইন করলেন শেখ মুজিব। দালাল আইন বাতিল করে রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন শেখ মুজিব। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করলেন শেখ মুজিব। তারপরও ইতিহাসের এত বড় সত্যকে পায়ের নিচে চাপা দিয়ে মতিয়া আপা তারস্বরে চিত্কার করে বলছেন, জিয়া ২২ হাজার রাজাকারকে ক্ষমা করেছিলেন।
চার
মতিয়া আপাসহ সব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে টেক্কা দিয়েছেন ফখরুদ্দীন ও মইনউদ্দিনের পেয়ারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, টি, এম শামসুল হুদা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চলমান সংলাপ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, আমাদের সংলাপ হলো একটা কার্টেসি।
অর্থাত্ লোক দেখানো সৌজন্য মাত্র। কারণ তার ভাষায় ‘আমরা যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারি।’
তার কথা শুনে গুপী গাইন বাঘা বাইনের মতো বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল, ‘দেখোরে নয়ন মেলে, দেখোরে জগতের কী বাহার।’ কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।
পাঁচ.
বাংলাদেশ যেন কয়েক বছরের মধ্যে সত্যজিত্ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ পরিণত হয়েছে। অথবা হীরক রাজার দেশের দ্বিতীয় পর্বের অভিনয় চলছে এখন।
হীরক রাজা যা বলবে তাতেই সবাইকে ধন্য ধন্য করতে হবে। নইলে যন্ত্রর মন্ত্রর ঘরে ঢুকিয়ে মগজ ধোলাই করে দেয়া হবে। বলতে হবে, ‘যায় যদি যাক প্রাণ, হীরকের রাজা ভগবান।’ কৃষক বলবে, ‘ভরপেট না-ও খাই, রাজ কর দেওয়া চাই।’ শ্রমিককে বলতে হবে, ‘অনাহারে নাহি খেদ, বেশি খেলে বাড়ে মেদ।’
স্কুল পাঠশালা বন্ধ করে বলতে হবে, ‘লেখাপড়া করে যেই, অনাহারে মরে সেই।’ ‘বিদ্যালাভে লোকসান, নাই অর্থ নাই মান।’ ‘জানার কোন শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই।’
হীরকের এই অদ্ভুতুড়ে দুঃশাসনের সহায়ক তার মন্ত্রী, বৈজ্ঞানিক, সভাকবি, জ্যোতিষী, তার মগজ ধোলাই হওয়া সৈন্যদল/তারপরও কি শেষ রক্ষা হলো, ‘যারা তার ধামাধারী, তাদেরও বিপদ ভারী।’
এক পণ্ডিত মশাই আর গুপী, বাঘা মিলে তচনচ করে হীরকের নির্যাতনের রাজত্ব। মগজ ধোলাই হওয়া কলের পুতুলের মতো সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিরে এলো হুঁশ। তারা পথের দিশা পেয়ে ছুটল হীরকের বিশাল স্টাচু ভাঙতে। আর সেই দুষ্টু ছেলেটা, যে বাটুল দিয়ে ভেঙে দিয়েছিল রাজ মূর্তির নাক—সেও।
শেষ পর্যন্ত স্বয়ং হীরক রাজাও ছুটল তার মূর্তি ভাঙতে। মূর্তি উপড়ানোর জন্য লাগানো দড়ি ধরে সেও প্রাণপণ টানতে টানতে সবার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গাইতে লাগল, ‘দড়ি ধরে মার টান, রাজা হবে খান খান।’
হীরক রাজার কাণ্ডজ্ঞান ফিরেছিল। কারণ সেখানে গুপী গাইন আর বাঘা বাইনের মতো ভালো মানুষরা এসে জুটেছিল। পেয়েছিল পণ্ডিত মশাইয়ের মতো নিবেদিতপ্রাণ জনসেবক, সমাজকর্মী। কিন্তু আমরা কোথায় যাব? কোথায় পাব গুপী গাইন বা বাঘা বাইনের মতো মানুষ। কোথায় পাব পণ্ডিত মশাইয়ের মতো দেশদরদী। আমাদের অচলায়তনের দ্বার ভাঙবে কে? কোথায় আমাদের অরিন্দম?
ছয়.
’৭১-এর কথা। পাক আর্মি ঢুকেছে একটি গ্রামে। দেখল একজনের উঠোনে বেশ কিছু মোরগ-মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর্মির কমান্ডার জিজ্ঞেস করল, এই মুরগা কা মালিক কৌন হ্যায়?
উপস্থিত লোকজনের মাঝ থেকে ভয়ে ভয়ে তিনজন এগিয়ে এলো, হুজুর আমরা হ্যায়।
তাদের ধারণা ছিল এরা হয়তো মোরগ-মুরগিগুলো চাইবে। ভেবেছিল চাওয়া মাত্র দিয়ে প্রাণ বাঁচাবে।
কমান্ডার প্রথম জনকে ডাকল, ‘এই তোম মোরগা কো কেয়া খাওয়াতা হ্যায়?
লোকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল, ‘হুজুর ধান-চাল খাওয়াতা হ্যায়।’
রেগে আগুন হয়ে উঠল কমান্ডার, ‘কেয়া, পাবলিককো খানা তোম মুরগা কো খাওয়াতা হ্যায়। এই আদমি কো দশ লাথ মারো। লাথি খেয়ে সেতো পড়ি মরি চিত্কার।
এবার দ্বিতীয়জনকে কমান্ডার বলল, ‘এই তোম কেয়া খাওয়াতা হ্যায়?
ভয়ে নীল হয়ে যাওয়া লোকটা কাঁপতে কাঁপতে বলল, হুজুর আমি আটা খাওয়াতা হ্যায়! বলে হে হে করতে লাগল।
আবার রেগে আগুন কমান্ডার ‘এই শালে লোক, কেয়া বলতা হ্যায়? আর্মি কো খানা তোম মোরগা কো খাওয়াতা হ্যায়! এই লে যাও, এ শালাকে বিশ লাথি মারো।’
কমান্ডার এগিয়ে গেল সব শেষজনের দিকে, ‘এই তোম কেয়া খাওয়াতা হ্যায়?’
লোকটা নির্বিকারভাবে বলল, হুজুর হামি কিছুই খাওয়াতা হ্যায় না।
কেয়া?
হ হুজুর। প্রতিদিন সকালে আমি মোরগাকো ডাকতে হ্যায়। মোরগা মেরা পাঁচ আইতা হ্যায়। আইলে আমি প্রতি মোরগারে একটা করে টেকা দিতা হ্যায়। ওরা টেকা লাইয়া যাইয়া, যখন যা মন চায় কিনা কিনা খায়।
কমান্ডার খুব খুশি। বলল, তুম ভি সাচ্চা আদমি হো।
No comments:
Post a Comment